কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা কী কী?

কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা কী কী?কাঁচা ছোলা রাতে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকাল বেলা এ কাঁচা ছোলা ধুয়ে পরিষ্কার করে পেঁয়াজের সঙ্গে চিবিয়ে খেতে হবে। যারা প্রথম অবস্থায় কাঁচা ছোলা খাওয়া শুরু করতে চান তারা ভেজানো ছোলা কিছু সময় সেদ্ধ করেও খেতে পারেন। এ ছোলা বাড়িতে ডালের মতো রান্না করেও খেতে পারেন।



প্রথমেই জেনে নিই কাঁচা ছোলা খেলে কি কি উপকার হয়:
১. ডাল হিসেবে ভাল একটি খাদ্য,
২. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়,
৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে,
৪. রক্ত চলাচল সাহায্য করে,
৫. ক্যান্সার রোধ করে,


৬. কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে,
৭. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে,
৮. ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী,
৯. যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে,
১০. রক্তের চর্বি কমায়,
১১. অস্থির ভাব দূর করে,
১২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে,


১৩. হাত ও পায়ের তালুর জ্বালাপোড়া দূর করে,
১৪. কফ সারাতে সাহায্য করে,
১৫. হজম শক্তি বৃদ্ধি করে,
১৬. কৃমি নাশক হিসেবে কাজ করে,
১৭. মেরুদণ্ডের ব্যথা দূর করে।



এখন জেনে নিই কাঁচা ছোলা খেলে কি কি অপকার হয়:
কাচা ছোলা খেলে কোন প্রকার ক্ষতি হয় না। তাই নিশ্চিন্তে ছোলা খান আর সুস্থ থাকুন।



কাঁচা ছোলার অপকারিতা ও কিভাবে এটি খাওয়া উচিত, সে সম্পর্কে জেনে নিন-



কাঁচা ছোলা ভেজে খেতে আমরা সবাই খুব পছন্দ করি। কিন্তু এটা একেবারেই ঠিক নয়। অনেকেরই ওজন বৃদ্ধি পায়, মোটা হয়ে যায় বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা কাঁচা ছোলা খেতে পারেন। কিন্তু কোনোভাবেই কাঁচা ছোলা ভেজে খাবেন না।

 

কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা কী কী?



যাদের বমির সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য কাঁচা ছোলা না খাওয়াই ভালো।

. তেল, মসলা দিয়ে তৈরি করা ছোলা খেতেও অনেকেই পছন্দ করে থাকি। যাকে চানা মসলাও বলা হয়ে থাকে। যাদের ওজন বেশি তারা এ ধরনের ছোলা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ অতিরিক্ত তেল মসলা তাদের জন্য খুবই ক্ষতিকারক।


অস্থির ভাব দূর করে ছোলা : ছোলায় শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পরিমাণ কম থাকায় শরীরে প্রবেশ করার পর অস্থির ভাব দূর হয়।


জ্বালাপোড়া দূর করে ছোলা : সালফার নামক খাদ্য উপাদান থাকে এই ছোলাতে। সালফার মাথা গরম হয়ে যাওয়া, হাত-পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া কমায়।


. যাদের হজম শক্তি কম থাকে, তারা কাঁচা ছোলা সহজে হজম করতে পারে না। এছাড়াও যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে। যাদের রক্তের ডায়ালসিস চলছে, যাদের শরীরে কিটেনিন ও ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেশি রয়েছে তারা যেকোনো রকমের ছোলা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।


ব্যথা দূর করে ছোলা : এছাড়াও এতে ভিটামিন ‘বি’ও আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। ভিটামিন ‘বি’ মেরুদণ্ডের ব্যথা, স্নায়ুর দুর্বলতা কমায়। ছোলা অত্যন্ত পুষ্টিকর। এটি আমিষের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস। এতে আমিষ মাংস বা মাছের পরিমাণের প্রায় সমান। তাই খাদ্যতালিকায় ছোলা থাকলে মাছ মাংসের প্রয়োজন পরে না। ত্বকে আনে মসৃণতা। কাঁচা ছোলা ভীষণ উপকারী।


.

কাঁচা ছোলা খাওয়ার অপকারিতা


কাঁচা ছোলা চিবানো কঠিন হতে পারে এবং অনেক লোক তাদের পছন্দের জন্য খুব শক্ত বলে মনে করে। তাছাড়া, কাঁচা ছোলায় ফাইটিক অ্যাসিড থাকে


যা আয়রন শোষণে বাধা দেয়। এটি নিয়মিতভাবে খাওয়া হলে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তাল্পতা হতে পারে।

উচ্চ ফাইবার সামগ্রী, ফাইটিক অ্যাসিড সামগ্রী এবং প্রোটিন সামগ্রীর কারণে কাঁচা ছোলা সহজে হজম হয় না।
কাঁচা ছোলায় প্রোটিজ ইনহিবিটরও থাকে যা প্রোটিন হজম এবং শোষণকে বাধা দেয়।
সেদ্ধ বা রান্না করা ছোলাতে এই ইনহিবিটার কম থাকে এবং এর ফলে আপনার পরিপাকতন্ত্রের উপর তেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

 


ছোলা রান্না করার দ্রুত এবং সহজ উপায় ফুটানো।
ফুটন্ত জলে তাজা ছোলা রান্না করা ছোলা কোষগুলিকে ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে, আপনার জন্য সেই সমস্ত দুর্দান্ত পুষ্টিগুলিকে শোষণ করা সহজ করে তোলে যা অন্যথায় ভাজা বা মাইক্রোওয়েভিংয়ের মতো অন্যান্য রান্নার পদ্ধতিতে নষ্ট হয়ে যায়