আত্তাহিয়াতু সূরা বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ ফজিলত

আত্তাহিয়াতু সূরা বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ ফজিলত
আত্তাহিয়াতু সূরা বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ ফজিলত

আত্তাহিয়াতু সূরা । আত্তাহিয়াতু বাংলা উচ্চারণ। আত্তাহিয়াতু কখন পড়তে হয়। এবং আত্তাহিয়াতু সূরা বাংলা উচ্চারণ । তাশাহুদ বাংলা অর্থ সহ আলোচনা করা হলো

এই দোয়া টি আমরা সাধারণত নামাযের শেষের দিকে বৈঠকে বসে আত্তাহিয়াতু পড়ার পর, দুরুদে ইব্রাহিম পড়ার পর এই দোয়া টি পড়ে থাকি । নামাযে নিয়ত বাঁধার পর সানা (সুবাহাকাল্লাহুম্মা) পড়তে হয় । এর পর সূরা ফাতিহা পড়তে হয় । তারপর সূরা ফাতিহার সাথে অন্য যেকোন সূরা মিলিয়ে পড়তে হয় ।

আত্তাহিয়াতু সূরা বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ ফজিলত

এরপর রুকুতে গিয়ে সুবহা-না রব্বিয়াল আ`যিম পড়তে হয় । এরপর রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে দাড়াতে হয় । তারপর সিজদায় যেতে হয়, সেজদায় সুবহা-না রব্বিয়াল আ‘লা পড়তে হয় । এভাবে দুই সেজদার পড় উঠে দাঁড়িয়ে হাত বাঁধতে হয় ।

আত্তাহিয়াতু সূরা বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ ফজিলত
আত্তাহিয়াতু সূরা বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ ফজিলত

মহান আল্লাহ এবং মহানবী (সঃ) এই কথোপকথন শুনে ফেরেস্তারা বলেন:-আশহাদু আল লা-ইলাহা ইলল্লালাহু ওয়া আশহাদুআন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু।অর্থ:- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,মুহাম্মাদ (সঃ) তার বান্দা ও রাসূল।
“সুবহানাল্লাহ”।

এখন আমি এবং আপনি আত্তাহিয়াতু গুরুত্ব এবং পিছনের ইতিহাস জানতে পারলাম,এবার একটু চিন্তা করুন তো,এই লেখাটি যদি আপনার মাধ্যমে অন্যান্য মানুষেরাও জানে তাহলে তারাও এই দোয়ার গুরুত্ব বুজতে পারবে

 

আরও পড়ুন     শবে কদরের নামাজের নিয়মাবলী নিয়ত দোয়া ও ফজিলাত

ফরজ গোসলের নিয়ম ও নিয়ত দোয়া ইসলামের আলোকে

ভালোবাসার রোমান্টিক কথা ইসলামিক-রোমান্টিক কথাবার্তা

আত্তাহিয়াতু সূরা আরবিঃ

 

– اَلتَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِيْنَ ، أَشْهَدُ أَن لَّاإِلَهَ إِلَّ ا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. –

আত্তাহিয়াতু/তাশাহুদ বাংলা উচ্চারনঃ

 

আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্‌ সালাওয়াতু, ওয়াত্‌ তাইয়িবাতু। আস্‌সালামু ‘আলাইকা আইয়্যুহান নাবীয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আস্‌সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্‌ সালিহীন। আশহাদু আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশ্‌হাদু আননা মুহাম্মাদান আদুহু ওয়া রাসুলুহু।

 

আত্তাহিয়াতু/তাশাহুদ বাংলা অনুবাদঃ

কি মৌখিক,কি দৈহিক,কি আর্থিক সকল ইবাদাত এক মাত্র আল্লাহ’র জন্য/সমস্ত সম্মানজনক সম্বোধন আল্লাহর জন্যে।সমস্ত শান্তি কল্যাণ ও পবিত্রার মালিক আল্লাহ। হে নবী, আপনার উপর আল্লাহ’র শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)আসসালামু আলায়না ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সোয়ালেহিন(আমাদের উপর এবং সৎকর্মশীল বান্দাদের উপর আল্লাহ’র শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতিত অন্য কোন ইলাহ নেই,আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ(সাঃ) আল্লাহ’র বান্দা ও রাসুল।

 

আলহামদুলিল্লাহ অর্থ কি

তারপর আবার আগের নিয়মে সূরা ফাতিহা পড়ে, আগের মত করে পরের রাকাত শেষ করতে হয় । এভাবে যদি দুই রাকাত নামাজ হয়, তাহলে দুই রাকাত পড়ার পরে বসে আত্তাহিয়াতু পড়তে হয় । তারপর দুরুদে ইব্রাহিম পড়তে হয় । তারপর সালাম ফেরানোর আগে এই দোয়া মাসুরা পড়তে হয় ।

আত্তাহিয়াতু সূরা বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ ফজিলত
আত্তাহিয়াতু সূরা বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ ফজিলত

নামাজে আত্তাহিয়াতু পড়ার কারণঃ

 

আসলেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি দোয়া। এই দোয়াটার পিছনের ঘটনা জানার পর সত্যি আমার হৃদয়টা অনেক কোমল হয়ে গেছে! আত্তাহিয়াতু আসলে, আল্লাহর সাথে আমাদের মহানবী (সঃ) কথোপকথন একটা অংশ। যা আমাদের মহানবী (সঃ) ইসরাউল মিরাজ যাত্রার সময় হয়েছে মহান আল্লাহর সাথে! মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাহি অয়া সাল্লাম যখন মহান আল্লাহর সাথে কথো পকথন শুরু করেন তখন আল্লাহ কে আসসালামু আলাইকুম বলেন নি ! তাহলে কি বলেছিল, ,,??

কারন , আমরা মহান আল্লাহ কে বলতে পারব না , মহান আল্লাহ আপনার উপর শান্তি নাজিল হউক ! কারন , মহান আল্লাহ নিজেই একমাত্র পৃথিবীর সকল শান্তি এবং রহমতের উৎপত্তি স্থল! মহানবী (সঃ) আল্লাহকে উদেশ্য করে বলেছিলেনঃ আত্তাহিইয়া-তু লিল্লা-হি ওয়াছ ছালাওয়া – তু ওয়াত্ ত্বাইয়িবা -তু অর্থঃ যাবতীয় সম্মান, যাবতীয় উপাসনা ও যাবতীয় পবিত্র বিষয় আল্লাহর জন্য। উওরে মহান আল্লাহ বলেনঃ আসসালা-মু’আলায়কা আইয়ুহান্নাবিয়ু ওয়া রহমাতুল্লা-হি ওয়া-বারাকাতুহু।

আত্তাহিয়াতু সূরা বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ ফজিলত
আত্তাহিয়াতু সূরা বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ ফজিলত

অর্থঃ হে নবী, আপনার উপরে শান্তি বর্ষিত হউক এবং আল্লাহর অনুগ্রহ ও সমৃদ্ধি সমূহ নাযিল হউক। এতে মহানবী (সঃ) বলেনঃ আসসালা-মু-আলায়না ওয়া আলা ইবাদিল্লা-হিছছালেহীন। অর্থঃ আল্লাহর সমৃদ্ধি শান্তি বর্ষিত হউক আমাদের উপরে ও আল্লাহর সৎকর্মশীল বান্দাগণের উপরে। মহান আল্লাহ এবং মহানবী (সঃ) এই কথোপ কথন শুনে ফেরেস্তারা বলেনঃ আশহাদু আল লা ইলাহা ইলল্লা লাহু ওয়া আশ হাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু।

অর্থঃ আমি সাক্ষ্যই দিচ্ছি যে , মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে , হজরত মুহাম্মাদ (সঃ) তাহার বান্দা ও রাসূল। ” সুবহানাল্লাহ ” । এখন আমি এবং আপনি আত্তাহিয়াতু গুরুত্ব এবং পিছনের ইতিহাস জানতে যে পারলাম , এবার একটু চিন্তা করুন তো রে , এই লেখা টি যদি আপনার মাধ্যমে অন্যান্য মানুষেরা ও জানে তাহলে তারা ও এই দোয়ার গুরুত্ব বুঝতে পারবে