তাহাজ্জুদ নামাজের সূরা

তাহাজ্জুদ নামাজের সূরা  , তাহাজ্জুদ নামাজ অর্থ কি? আরবি ‘তাহাজ্জুদ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে রাত জাগা বা নিদ্রা ত্যাগ করে নামাজ আদায় করা। অর্থাৎ তাহাজ্জুদ নামাজ অর্থ রাতের নামাজ।



তাহাজ্জুদ নামাজে কোন সূরা পড়তে হয়

 

ফরয নামায ব্যতীত অন্যান্য (ওয়াজিব, সুন্নাত, নফল) নামাজের প্রতি রাকাতে সূরা আল-ফাতিহা পড়ার পর যে কোন সূরা বা সূরার অংশবিশেষ পড়া ওয়াজিব (বাধ্যতামূলক)। নফল নামাজের জন্য কোন সূরা নির্দিষ্ট নেই। কুরআন মজীদের যে স্থান থেকে পড়া নামাযী নিজের জন্য সহজ মনে করেন সেখান থেকে পড়বেন।

 


আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান রাঃ বলেন,

 


তিনি একদা আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রমজানের রাতের সালাত কেমন ছিল। উত্তরে তিনি বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রামাযান মাসে এবং রামাযানের বাইরে ১১ রাকাতের বেশি সালাত আদায় করতেন না। তিনি প্রথমে (২+২) চার রাকাত পড়তেন। তুমি (আবু সালামা) তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করাে না। অতঃপর তিনি (২+২) চার রাকাত পড়তেন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করাে না। অতঃপর তিনি তিন রাকাত (বিতর) পড়তেন।

 



তাহাজ্জুদ নামাজ কি এশার নামাজের পর পর পড়া যাবে?
হ্যাঁ পড়া যাবে।

 


কারো ঘুম থেকে উঠতে সমস্যা হলে এশার নামাজের ফরজ এবং সুন্নত পড়ার পর বিতর নামাজের আগে ২ রাকআত ২ রাকআত করে তাহাজ্জুদের নিয়ত করে এই নামাজ পড়তে পারবেন। এবং পড়ে বিতরের নামাজ পড়বেন। তবে তাহাজ্জুদ নামাজের সর্বোত্তম সময় হচ্ছে শেষ রাতে


 

তাহাজ্জুদ নামাজের সূরা

 

 


তাহাজ্জুদ নামাজ কি প্রতিদিন পড়তে হয়


তাহাজ্জুদ নামাজ কখনাে ত্যাগ না করে প্রতিদিন বা নিয়মিত আদায় করা উত্তম। নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকাত নিয়মিত পড়া মুস্তাহাব; যদি শরীর চাঙ্গা ও মন প্রফুল্ল থাকে, তাহলে দীর্ঘ কিরাত করবে; অন্যথায় হালকা কিরাতে সালাত আদায় করবে, আর কখনো ছুটে গেলে কাযা করবে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

 



তোমরা সে পরিমাণ আমল কর, যার সাধ্য তােমাদের রয়েছে; কারণ আল্লাহ ক্লান্ত হন না, যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হও। তিনি বলতেন: আল্লাহর নিকট সেই আমলই অধিক পছন্দনীয়; বান্দা যার ওপর নিয়মতান্ত্রিকতা বজায় রাখে, যদিও তার পরিমাণ কম হয়।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৭০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮২


অনেকেই জানতে চান তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নত নাকি নফল । তাহাজ্জুদ নামাজ একটি নফল ইবাদত। তবে এটি শ্রেষ্ঠ নফল ইবাদত। কারন ফরজ নামাজ ব্যতীত সকল সুন্নত ও নফল নামাজের মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত অনেক বেশি।

ফজিলত বেশি হওয়ার কারণেই রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর উপর ওয়াক্তের নামাজ ফরজ হওয়ার আগে তাহাজ্জুদ নামাজ বাধ্যতামূলক ছিলো। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন।


তবে উম্মতদের জন্য এ নামাজ সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদা। আর সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা এর মর্ম হচ্ছে- আদায় করলে অশেষ পূর্ণ লাভ করা যায়, কিন্তু আদায় না করলে গুনাহ হয় না।




তাহাজ্জুদ নামাজ কি অন্ধকারে পড়তে হয়
রাতের সালাত আদায় করার উদ্দেশ্য হলো বেশি বেশি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা; তাই সালাতে একাগ্রতা ও নম্রতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি; বেশি আলোতে তাহাজ্জুদ পড়লে যদি একাগ্রতায় বিঘ্নতা ঘটে তবে হালকা আলোতে তাহাজ্জুদ পড়া উত্তম হবে।


নিয়মঃ
প্রথমে তাকবিরে তাহরিমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নিয়ত বাঁধা।
অতঃপর ছানা পড়া।
সুরা ফাতেহা পড়া।
সুরা ফাতেহার সাথে সুরা মিলানো তথা কেরাত পড়া।


অতঃপর অন্যান্য নামাজের ন্যায় রুকু, সেজদা সঠিকভাবে আদায় করা।
এভাবেই দ্বিতীয় রাকাআত আদায় করা
দ্বিতীয় রাকাত শেষে বৈঠকে যথাক্রমে তাশাহহুদ, দরূদ ও দোয়া মাছুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা।